Sunday, January 15, 2017

গাউসে মাইজভান্ডারীর শানে উত্থাপিত আপত্তির জবাবঃ গাউছিয়ত,গাউছিয়ত তাজ,বিলাদত,বেলায়ত বিষয়ের বেয়াদবির জবাবঃ পর্ব ১


দ্বীনে মিল্লাত গাজী আজিজুল হক শেরে বাংলা রহঃ উনার কিতাব দিওয়ানে আজিজে গাউসে মাইজভান্ডারি এর শান উনার বিখ্যাত কিতাব "দিওয়ানে আজিজ" উক্ত কিতাবের
(৮ম পংক্তি) তে তিনি শের করেছেনঃ "পয়গম্বরকুল সরদার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামার পবিত্র হাতে (পরস্পর সমকক্ষ ও স্বতন্ত্র অনাধিক দুই গাউসুল আ'যমের জনয)দুটি তাজ বা মুকুট ছিল,তম্মধ্যকার একটি নিঃসন্দেহে হযরত আহমদ উল্লাহ কঃ এর শির মুবারকে স্থাপিত।
টীকাঃ দু'টি তাজ বা মুকুট মর্মে ক্ষমতা ও মর্যাদার বিশেষ শ্রেষ্ঠত্বের সমাধিকারি দু'ভাবধারার অনধিক দুই স্বতন্ত্র গাউসুল আ'যমের বিশেষত্ব প্রতিভাত হয়।যা হযরত গাউসুল আ'যম দ্বয়ের প্রথমজন ইঙ্গিতে এবং দ্বিতীয়জন খোলাখুলিই ঘোষণা করেন।যথাঃ প্রথমজনের ইরশাদ সুত্রে নিজ সমকক্ষ একজন বন্ধুর কোথা এমন বৈশিষ্ট্য সহকারে উলেখ করেন,যাতে নিজের এবং হযরত গাউসুল আ'যম মাইজভান্ডারি কঃ উক্তরুপ অনন্য বিশেষত্ব প্রতিভাত হয়। (বাহজাতুল আসরার বৈরুত,লেবানন ৫৫ পেইজের বিবৃতি মর্মে) আর অনন্য অপর গাউসুল আ'যমের ইরশাদ হচ্ছে "রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামার হস্ত মুবারকে দু'টি তাজ বর্ণানান্তরে টুপী ছিল;একটি আমার মাথায় পরিয়ে দেন,অপরটি আমার ভাই পিরানে পির শায়খ সৈয়দ আব্দুল কাদের জিলানি সাহেবের মাথায় পড়ানো হয়।(জীবনি ও কেরামত গ্রন্থ,বেলায়তে মোতালাকা সহ বহুল তথ্য সুত্রে বর্ণিত)
অতএব সর্বজনিন স্বীকৃত এ মহান দুই গাউসুল আ'যমের ঐক্যমত ভিত্তিক অভিমতের সাআথে সাংঘরষিক মতভিন্নতা তথা গাউসুল আ'যমের সংখ্যা দু'য়ের কম কিংবা বেশি বলা হয় এমন মত ভিন্নতা মাত্র পরিত্যাজ্য।
এখানে উল্লেখিত 'তাজ' প্রদত্ত হওয়ার বিষয়টি যে গাউসুল আ'যমিয়ত ও গাউসুল আ'যমের সংখ্যা নির্দিষ্টকরণ মর্মীয় বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে,তা পরবর্তী পংক্তি যোগে আর ও সুস্পষ্ট।
(৯ম পংক্তি) " এই (তাজ-শিরোপা প্রদত্ত হওয়ার )কারণেই তিনি অনন্য দু'য়ের এক স্বতন্ত্র ) গাউসুল আ'যম।পূর্বঅঞ্চলে অবস্থিত তার রাওজা শরিফ থেকে জিন-পরি ও মানবজাতি ফায়েজ ও অনুগ্রহের দান লাভকারি হয় (বিধায় তিনি গাউসুল আ'যম;গাউসুস সাকলাঈন"
টীকা (১)ঃ এখানে গন্থকার মহোদয়ের ভাষায়" যী সবব উ গাউসুল আ'যম অর্থাৎ 'এ' (তাজ-শিরোপা প্রদত্ত হওয়ার) কারণেই তিনি অনন্য দু'ইয়ের এক স্বতন্ত্র) গাউসুল আ'যম কথাটি পরিপূর্ণ একটি বাক্য বটে।এটির সাথে পরবর্তী বাক্যের একটি অংশ তথা 'দর বেলা-দে মাশরিকী" অর্থাৎ, 'পূর্বাঞ্চল-এ কথাটি বিধি বহির্ভূত ভাবে যুক্ত করার প্রয়াসে যারা 'দর' শব্দের অর্থ 'এ' বা মধ্যে 'না' করতঃ 'জন্য' করে থাকে,তারা চোরাবালির ভ্রমে নির্ঘাত নিমজ্জিত বৈকি।
পক্ষান্তরে 'দর বেলা-দে মাশরিকী-(পূর্বাঞ্চলে এ) এ বাক্যাংশটি তার রাওজার অবস্থান নির্দেশকরণাত্মক ই এবং এটির সংযুক্তি পূর্ববর্তী বাক্যের সাথে নয় বরং পরবর্তী বাক্যের অন্তর্গত 'রাওজাহ আশ' (তার রাওজাহ) বাক্যাংশের সাথেই।আর 'বেলা-দে মাশরিকী-র অর্থ এখানকার ক্ষেত্রানুসারে 'পূর্বঅঞ্চল ই হবে অর্থ 'পূব পাকিস্থান' বুঝান হত।কারণ ব্যাক্তি সত্ত্বা বিহীন কেবলমাত্র স্থানের সাথে সম্প্রীক্ততা জ্ঞাপনীয় 'ইয়া' যুক্ত হলে এমন অর্থই বিধেয়।
আর সমগ্র 'জিন পরি ও মানবজাতি ফায়েজ-অনুগ্রহের দান লাভকারি হয়' এই উক্তি মর্মে প্রতিভাত হয় যে,হযরত গাউসুল আ'যম মাইজভান্ডারি কঃ অবিকল হযরত গাউসুল আ'যম জিলানী-বাগদাদি কঃ এর মতই গাউসুস সাকালাঈন ও হন
অতএব সর্বসাকুল্যে আমাদের উপরোক্ত অনুবাদ যথার্থ।।
(টীকা ২)ঃ এতে করে যে দুটি তাজ-শিরোপা প্রদত্ত হওয়ার কারণে অনধিক দুই গাউসুল আ'যম সাব্যস্তহন,কিন্তু তদ্ব্যতীত অন্য কাউকে গাউসুল আ'যম বলতে গেলে প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক! তাহলে স্বয়ং শেরে বাংলা রহঃ এই দু সত্ত্বা ব্যতীত অন্যান্যদের (যেমন বাবা ভান্ডারি) কে গাউসুল আ'যম লিখার কারণ কি?
১।হযরত কুতুবুল আকতাব বাবা ভান্ডারি কঃ তিনি ছানি বা দ্বিতীয় গাউসুল আ'যম বলে আখ্যা দিয়েছেন।এই ছানি বা দ্বিতীয় কথাটির পরিভাষার রুপক অর্থানুসারে- প্রকৃত গাউসুল আ'যম নন বরং গাউসুল আ'যমের মত বুঝান হয়। যেমনঃ ছানি ইউসুফ,ছানি ওয়াইস করণি ইত্যাদির অনুরুপ অর্থই বুঝান হয়। অন্যথায় অনধিক দুই গাউসুল আ'যমের পরবর্তী সময়কালিন হযরত বাবা ভান্ডারি কঃ কে প্রকৃত অর্থে দ্বিতীয় বলার কোন অবকাশ নেই। এমনকি প্রকৃত অর্থে মাইজভান্ডারি শরিফের দ্বিতীয় বলে আখ্যা প্রধান করতে গেলেও দুটি সঙ্গতি দেখা দেয়।একে তোঃ তাজ-শিরোপা প্রদত্ত হওয়ার কারণে গাউসুল আ'যম সাব্যস্ত হন' মর্মের সাথে সমন্বয় হয় না,দ্বিতীয়তঃ বাগদাদের অধিবাসি দুইজন কে গাউসুল আ'যম লিখার ক্ষেত্রে তিনি তদীয় মুরশিদ কিবলা কে দ্বিতীয় গাউসুল আ'যম বলেন নি বিধায় এখানেও আবাসস্থল ভিত্তিক প্রকৃত অর্থে দ্বিতীয় বলার সূত্র প্রশ্নাতিত নয়!

No comments:

Post a Comment